সর্বশেষ: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬ — লেক কারিবায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৪
লেক কারিবায় ফেরিডুবিতে মৃত ৮৪ —
১৮ শিশুসহ জিম্বাবুয়ের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনা
ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ যাত্রী নিয়ে, একটিমাত্র ইঞ্জিন চালু রেখে এবং যাত্রীদের ফেরার অনুরোধ উপেক্ষা করে রওনা দেওয়া সরকারি ফেরি ‘মবুয়া নেহান্দা’ কারিবা লেকে ডুবে গেছে। মৃতদের মধ্যে ১৬ জনের বয়স ১০ বছরের কম।
84 dead in Zimbabwe’s Lake Kariba ferry disaster —
18 children among victims in the country’s deadliest maritime tragedy
মূল প্রতিবেদন
গত ১১ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেলে জিম্বাবুয়ের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের লেক কারিবায় সরকার পরিচালিত ‘মবুয়া নেহান্দা’ ফেরিটি ডুবে যায়। কারিবা শহরের বন্দর থেকে চালালা গ্রামের দিকে যাত্রা শুরুর প্রায় ৩০ মিনিট পরে মারাত্মক ঢেউয়ে ফেরিটি কাত হয়ে ডুবে যায়। এটি জিম্বাবুয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক নৌদুর্ঘটনা।
ফেরিটিতে ছিলেন কমপক্ষে ১৫৩ জন, যদিও অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ছিল মাত্র ৯০। ফেরির ক্যাপ্টেন সাইন পাৎসিকাডোভা (৫৯) নিজেও মারা গেছেন। জিম্বাবুয়ের সরকারি সংস্থা রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (রিডা) এই ফেরি পরিচালনা করত। মৃতদের মধ্যে ১৮ জন শিশু, যার মধ্যে ১৬ জনের বয়স ১০ বছরের নিচে। সর্বকনিষ্ঠ শিকার — ওয়েন্ডি নন্দারিকা, ম্যাকডোনাল্ড ন্যাশা গুম্পো এবং হেইলি তাউরো — প্রত্যেকের বয়স ছিল প্রায় এক বছর।
বেঁচে ফেরা যাত্রীরা জানিয়েছেন, রওনা দেওয়ার পরপরই ফেরিতে পানি ঢুকতে শুরু করে এবং আবহাওয়া খারাপ হতে থাকে। একাধিক যাত্রী চালককে ফিরে যেতে বলেছিলেন — কিন্তু তিনি রাজি হননি। ফেরিতে মাত্র একটি ইঞ্জিন চালু ছিল, বিলজ পাম্প ডুবে গেলে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ফেরিটি ঢেউয়ের বিপরীতে আড়াআড়ি হয়ে পড়ে এবং ডুবে যায়।
“ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, একটা ঢেউ ফেরিটিকে ঠেলে দিল আর আমরা উল্টে যাওয়া ফেরির ওপরে উঠতে পারলাম। বোট ডুবে যাওয়ার সময় বেশিরভাগ মানুষ লাইফ জ্যাকেট নেওয়ার চেষ্টা করল — কিন্তু অনেকেই জানত না কীভাবে পরতে হয়।”চ্যান্স সিয়ামাভু (৪৫) — বেঁচে ফেরা যাত্রী, কারিবায় স্মরণ সভায় AFP-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে
যেসব কারণে এই বিপর্যয় ঘটল
বেঁচে ফেরাদের কণ্ঠস্বর
মানবিক ক্ষতির হিসাব
লেক কারিবা পৃথিবীর বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার এবং জিম্বাবুয়ে-জাম্বিয়া সীমান্তে অবস্থিত। দুর্গম এলাকার মানুষদের জন্য এই ফেরিটিই ছিল কারিবা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র সহজলভ্য মাধ্যম। ফেরিডুবির পর চালালা রুটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে — মাছ ধরা পরিবারগুলোর বরফ ও বাজার পরিবহন বন্ধ, মানুষ আত্মীয়দের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায়ও যেতে পারছেন না।
এই দুর্ঘটনা বাংলাদেশের মানুষকেও গভীরভাবে স্পর্শ করে। বাংলাদেশও অসংখ্য নদী-খাল দ্বারা বেষ্টিত এবং এদেশের ফেরিদুর্ঘটনার ইতিহাস দীর্ঘ। অতিরিক্ত যাত্রী, পুরনো ইঞ্জিন এবং আবহাওয়া সতর্কতা উপেক্ষা — কারিবার ফেরিডুবির এই কারণগুলো বাংলাদেশের নৌ-দুর্ঘটনার সঙ্গে মর্মান্তিকভাবে মিলে যায়।
সম্পাদকীয় স্বচ্ছতা নোট: মৃতের সর্বশেষ সংখ্যা ৮৪ — Al Jazeera (১৬ আগস্ট ২০২৬) এবং Wikipedia (2026 Lake Kariba ferry accident) থেকে যাচাইকৃত। CNN ও Washington Post-এর প্রতিবেদনে ৭২ উল্লেখ ছিল (১৫ আগস্ট), যা পরে আপডেট হয়েছে। বেঁচে ফেরা যাত্রীর উদ্ধৃতি AFP-এর মাধ্যমে Reuters ও Al Jazeera-তে প্রকাশিত।
- CNN — At least 72 dead, including 18 children, in Zimbabwe ferry disaster (August 15, 2026)
- Al Jazeera — Death toll rises to 84 from capsized ferry in Zimbabwe (August 16, 2026)
- Reuters — Zimbabwe ferry disaster death toll rises to 72 as 25 more bodies recovered (August 15, 2026)
- Washington Post — 26 more bodies recovered in Zimbabwe’s ferry disaster (August 15, 2026)
- Eastern Herald — Zimbabwe Ferry Disaster: 72 dead, 18 children among victims on Lake Kariba (August 16, 2026)
- Wikipedia — 2026 Lake Kariba ferry accident (updated August 17, 2026)
- The Manila Times — Death toll from Zimbabwe ferry capsizing rises to 72 (August 16, 2026)
- The News (Pakistan) — Zimbabwe ferry disaster death toll rises to 72 (August 15, 2026)




